উস্তাদের প্রতি আকাবীর আসলাফদের “ভালোবাসা”
#ইমাম আবু ইউসুফ رحمة واسعة رحمه الله
উনার উস্তাদ
ইমামে আজম আবু হানিফা رحمه الله رحمة واسعة এর প্রতি মহব্বত, ভালোবাসা,তাযীম, সম্মান ও অনুরাগ ছিল গভীর, হৃদয়স্পর্শী ও অনন্য উদাহরণ। এটি ইলম ও আদব,তালীম, তাযকিয়ার জগতে এক আলোকিত সম্পর্কের নিদর্শন।
তিনি শুধু একজন ছাত্র ছিলেন না, বরং তাঁর উস্তাদের ফিকহী চিন্তা-দর্শনের একজন বিশ্বস্ত ব্যাখ্যাকার, সংরক্ষক ও প্রচারক ছিলেন।
ইমাম আবু ইউসুফ رحمه الله বলেন:
আমার একমাত্র আফসোস — ইমাম আবু হানিফা’র সঙ্গে যত সময় কাটিয়েছি, যদি তার চেয়ে আরও বেশি সময় তাঁর সঙ্গে বসতাম, শিখতাম!”
ইমাম আবু ইউসুফ (রাহি.) বলতেন:
“আমি এমন কাউকে দেখি না যার প্রতি আমার দায়িত্ব, আমার উস্তাদ আবু হানিফা থেকে বেশি।”
(الرفع و التكميل، عبد الحي اللكنوي)
ইমাম আবু হানিফা র রাহি. প্রতি
ইমাম মোহাম্মদ রাহি. এর ভালোবাসা
গভীর কৃতজ্ঞতা:
ইমাম মুহাম্মদ رحمه الله বলতেন:
> «لولا أبو حنيفة وسفيان، لما عرفت شيئا»
“আবু হানিফা ও সুফিয়ানের (ইলম) ছাড়া আমি কিছুই জানতাম না।”
#হাদীস শাস্ত্রের একজন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস
শাইখ আব্দুল হাই লাখনৌভি (رحمه الله) এর একটি বিখ্যাত কথা—তিনি তার কিতাব “الرفع والتكميل في الجرح والتعديل”–এ এমন কথা উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর বিনয় ও উস্তাদদের প্রতি গভীর সম্মান ও দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়।
وأما أنا فقد أكثرتُ التتلمذ عند المشايخ حتى لا يكون حقّ أحدٍ منهم لازماً عليّ، بل يكون الفضل لهم جميعاً.”
তিনি সেখানে বলেন:
“আমি বহু উস্তাদের নিকট ইলম অর্জন করেছি, যাতে কোনো এক উস্তাদের হক আমার উপর অপরিহার্য না হয়ে পড়ে; বরং সবারই আমার প্রতি অনুগ্রহ থেকে যায়।”
“وہ جو چپکے سے دعائیں دے، اور کبھی بد دعا نہ کرے،
ایسا استاد صرف نصیب والوں کو ملتا ہے۔”
“যিনি নিঃশব্দে দোয়া দেন, কখনো বদদোয়া করেন না,
এমন উস্তাদজ্বী কেবল ভাগ্যবানরাই পান।”
যখন আমি দারুলউলুম দেওবন্দের ছাত্র ছিলাম , তখন আমার প্রিয় উস্তাদ আল্লামা আব্দুল্লাহ মারুফী হাফি. বলেছিলেন যে, যখন কোনো বড় মানুষ কথা বলবে তখন চুপ থাকবে, যদি কিছু বলতে বলে তাহলে বলবে আমি কিছু ই জানিনা আপনিই বলেন;
মূলত উস্তাদজ্বী আদব শিক্ষা দিচ্ছিলেন যে কোনো উস্তাদের সামনে কখনোই নিজেকে বড় সাজতে যাবেনা উস্তাদের সামনে নিজেকে সব সময় ছোট বানিয়ে রাখবে।
“استاد کا جو حق ہے، وہ رب کے بعد ہے،
علم دیا، ادب سکھایا، یہ بھی تو ایک عبادت ہے۔”
“উস্তাদ যে হক রাখেন, তা রবের পরেই আসে,
জ্ঞান দিলেন, আদব শেখালেন — এটাও তো এক ইবাদত।”
أنا عبدٌ لمن علّمني حرفًا”
“আমি সেই ব্যক্তির গোলাম, যিনি আমাকে একটি অক্ষর শেখান।”
#বিখ্যাত উক্তি যা হযরত আলী (রাযি.)-এর দিকে সম্বোধন করা হয়।
আমি গোলাম তাঁর— যিনি শিখিয়েছেন একটি অক্ষর, একটি হরফ, এক ফোঁটা ইলম,
তাতে আছে আমার জীবনের মান।
শিক্ষক শুধু পাঠ শেখান না,
তারা অন্তরের আঁধার কাটান।
তাদের হাতে গড়ে উঠে ভবিষ্যৎ মানচিত্র,
তারা পথ দেখান, আলো জ্বালান নিঃস্বার্থ।
আব্বা-মা জন্ম দিয়েছেন,
কিন্তু উস্তাদজ্বী চিনিয়ে দিয়েছেন কে আমি, কি আমার শান!?
তাদের চোখের ইশারা, ঠোঁটের নীরবতা,
তা-ও হয়ে যায় ইজতেহাদ ।
“শিক্ষককে যারা সম্মান করে, আল্লাহ তাদের সম্মানিত করেন।
আর যারা উস্তাদজ্বীর জন্য দোয়া করে ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া করে।”
হে আল্লাহ!
আমাদের উস্তাদদের হেফাজত করুন, দূনিয়া ও আখিরাতের আফিয়ত দান করুন।
তাদের জান ও ইলমে বরকত দাও, উভয় জাহানের হাসানা দান করুন। দাজ্জালের ফিতান থেকে হেফাজত করুন। اللهم استجب
#আমাদের অন্তরে উস্তাদের প্রতি আজীবন আদব ও দোয়ার বাতাস বয়ে চলুক।
লেখক: মুফতি খাদেমুল ইসলাম নূর কাসেমী
10:05 pm
10/07/25